বাংলাদেশে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে টিকটক, লাইকি ও বিগো

 


বাংলাদেশের যুবসমাজের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় তিনটি অনলাইন লাইভ স্ট্রিমিংয়ের প্লাটফর্ম টিকটক,লাইকি ও বিগো । কেবল বাংলাদেশ বলে নয় বরং উপমহাদেশ বা ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে অত্যন্ত জনপ্রিয় এগুলো । তবে সম্প্রতি ভারত ও পাকিস্তান তাদের দেশে এই তিনটি অ্যাপস আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে । 


বাংলাদেশেও যুবসমাজ ও তরুণদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য টিকটক, বিগো লাইভ, লাইকি মোবাইল অ্যাপস নিষিদ্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করা হয়েছে। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের স্বনামধন্য আইনজীবী মো. জে আর খান (রবিন) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন।


তার রিটে এসব অ্যাপস বন্ধে/নিষিদ্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং একইসাথে কেন উক্ত অ্যাপস বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হবে না এই মর্মেও প্রার্থনা করা হয়।


এই রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, আইজি পুলিশকে বিবাদী করা হয়।


তার করা রিটের বিষয়ে আইনজীবী মো. জে আর খাঁন রবিন বলেন, ‘এসব অ্যাপ তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। নষ্ট হচ্ছে নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে অপরাধমূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন তারা, হয়ে উঠছেন সহিংস। তরুণ সমাজ এসব অ্যাপের মাধ্যমে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জন করতে চান এবং নিজেকে জনপ্রিয় ভাবতে শুরু করেন।’


রিটে আরো বলা হয়েছে, বিগো-লাইভ অ্যাপের মাধ্যমে তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করে লাইভে এসে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দিয়ে এবং যৌনতার ফাঁদে ফেলে কৌশলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কাড়ি কাড়ি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়।


এতে বলা হয়, প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক তরুণ। এ অ্যাপটি মূলত একটি লাইভ স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, যেখানে একজন ব্যবহারকারী তার অনুসারীদের সঙ্গে লাইভমুহূর্ত শেয়ার করেন। এই অ্যাপের ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ তা নিষিদ্ধ করেছে।


এতে আরো বলা হয়, টিকটক অ্যাপের মাধ্যমে অনেক কিশোর-তরুণ উদ্ভট রঙে চুল রাঙিয়ে এবং ভিনদেশি অপসংস্কৃতি অনুসরণ করে ভিডিও তৈরি করছেন, যাতে সহিংস ও কুরুচিপূর্ণ কনটেন্ট থাকে। স্বল্পবসনা তরুণীরা টিকটকের অশ্লীল ভিডিওতে নাচ, গান ও অভিনয়ের পাশাপাশি নিজেদের ধূমপান ও সিসা গ্রহণ করার ভিত্তিও আপলোড করেছেন।


‘উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ভিডিওতে কোনো শিক্ষণীয় বার্তা নেই। উল্টো এসব ভিডিওর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা চলে যাচ্ছে। বিব্রতকর, অনৈতিক ও অশ্লীল ভিডিও যা পর্নোগ্রাফিকে উৎসাহিত করায় ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ায় এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’


এর আগে এ বিষয়ে ১৫ দিনের মধ্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আইনজীবী রবিন গত ৮ অক্টোবর জনস্বার্থে একটি নোটিশ প্রেরণ করেন। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় রিট দায়ের করেন তিনি।


যদিও ইতিপূর্বে টিকটিক, লাইকি ও বিগো লাইভ নিষিদ্ধ করা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে তবে সরকারের পক্ষ থেকে এগুলো বন্ধের বিষয়ে কার্যকরী কোন ভূমিকা গ্রহণ করা হয়নি । 


মূলত চিনা প্রতিষ্ঠান হ‌ওয়াতে চিনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবার শংকায় এগুলো বন্ধ হচ্ছেনা বলে মতামত দিয়েছেন অনেকেই । ভারতের সঙ্গে চিনের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাওয়া ও বাংলাদেশে চিনা বিনিয়োগ এগুলো চিনা এসকল অনলাইন প্লাটফর্ম বন্ধ করতে অন্তরায় বলে মনে করা হয় ।


সম্প্রতি টিকটক এর মডেল বানিয়ে দেবার কথা বলে গাজীপুর ও ঢাকায় টিকটক সেলিব্রিটি কিশোর কর্তৃক কিশোরী ধর্ষণের শিকার হ‌ওয়ার পর আবা‌র‌ও তুমুল সমালোচনা শুরু হয় । এছাড়াও অর্থের বিনিময়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, নগ্নতা ইত্যাদি বিষয়গুলো অহরহ ঘটে চলেছে । এমতাবস্থায় সরকার চাপের মধ্যে ছিল । সম্প্রতি এ রিটের ফলাফল কি হবে তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে দেশের আপামর জনসাধারণ । সেই সঙ্গে তারা ধন্যবাদ জানান আইনজীবী রবিনকে এই বিষয় আদালতে উত্থাপন করার জন্য ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post