ছবি তোলার সঠিক পদ্ধতি


আমরা সবাই জানি, ফটোগ্রাফি একটা শিল্প। আর এই শিল্পে দক্ষ হতে হলে মৌলিক কিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা অবশ্য দরকার। পপুলার সায়েন্স ওয়েবসাইটে আরেক পপুলার ফটোগ্রাফার হ্যারি গিনেস কিছু বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলো এড়িয়ে গেলে ছবি নান্দনিক হতে পারে। আসুন, সে সম্পর্কে আজকে জেনে নেই ।


ক্যামেরার কাজ: আমাদের মাঝে অনেকে ক্যামেরার খুঁটিনাটি সম্পর্কে ধারণা না নিয়ে ছবি তোলা শুরু করে থাকেন। আর তাতে হিতে-বিপরীত হয়। এই কাজ কখনোই করাই যাবে না।


আমাদের একটি দৃশ্যের একাধিক ছবি তুলতে হবে। ফাস্ট শাটার স্পিডে একটি তুললে দেখবেন যে আগেরটার চেয়ে অন্যরকম লুক এসেছে। আর অ্যাপারচার মোডের ক্ষেত্রেও তাই হবে।


মনে রাখুন, অটোমেটিক মোডে ছবি তুললে আপনি ক্যামেরার হাতে সব ছেড়ে দিচ্ছেন। এটা অধিকাংশ সময় গ্রহণযোগ্য একটা সেটিংস ঠিক করে নেয়। কিন্তু আপনি তাতে নিজের সৃষ্টিশীল দক্ষতা প্রকাশের খুব একটা সুযোগ পাবেন না কিন্তু।


ভালো ক্যামেরাম্যানের মতো দক্ষতা অর্জন করতে হলে অটোমেটিক মোড থেকে আপনাকে বেরিয়ে অন্য মোডগুলোর ব্যবহার শিখতেই হবে। আর এভাবে অভ্যস্ত হতে পারলে কয়েক মাসের ভেতর পরিবর্তন টের পাবেন আপনি।


রুল অব থার্ডস: ফটোগ্রাফি জগতে কিন্তু এই ‘রুল অব থার্ডস’ বহুল পরিচিত একটি ধারণা। যার কাছেই ক্যামেরা চালানো শিখতে যাবেন, এ বিষয়ে নিশ্চয়ই তিনি কিছু না কিছু বলে থাকবেন আপনাকে । কিন্তু এটি সম্পর্কে নিজস্ব কোনো জ্ঞান না রেখে অন্ধ অনুকরণ করলে ছবি প্রায়ই ভালো হয় না।


এই ধারণার মৌলিক কথাই হলো আপনি যদি প্রতিটি শটকে ‘থ্রি-বাই-থ্রি গ্রিডে’ ভাগ করে ছবি তোলেন, তাহলে ছবি অবশ্যই ভালো হবে।


‘৩x৩’ গ্রিড আর একটু ভালো করে বুঝতে হলে এডিটিংটা শিখতেই হবে আপনাকে । এডিটের সময় ক্রপ করতে গেলে যে বক্সগুলো সৃষ্টি হয় তাকেই কিন্তু গ্রিড বলে।


এই গ্রিডের কোন লাইনে সাবজেক্টের কোন অংশটুকু রাখলে ছবি ভালো দেখাবে সেটি আপনার মেধা খাটিয়ে বুঝতে হবে। এ জন্য শুধুমাত্র নিয়মের উপর ভরসা না করে নিজের চোখের ব্যবহার কিভাবে করবেন সেটাও শিখতে হবে। মানুষকে ছবিটি কীভাবে দেখাতে চান, সেটিও নিজেকেই ঠিক করতে হবে।


কম্পজিশনের বিষয় আসলে রুল অব থার্ডস মাথায় রাখুন, কিন্তু অন্ধ অনুকরণ কখনোই করবেন না। যদি এই নিয়মে ছবি ভালো হয় তো ভালো। তাই বলে অন্যভাবে তুলতে সংকোচ করবেন না। তাতে ছবিটি আরও ভালো দেখাতে পারে।


ফোনের ছবি: ফোনে ছবি তোলার সময় আমাদের দুই হাতই ব্যবহার করা উচিত। ফোনকে দুই হাতে সুন্দর করে ধরতে হবে, স্থিরভাবে ধরে রাখাটা এক্ষেত্রে জরুরি। নতুবা দেখা যাবে ছবিটি ঝাপসা হয়ে যাবে, ফ্রেমিং ভালো হবে না। কাঙ্ক্ষিত বিষয়টিও কিন্তু কেটে যেতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ কেউ বাদ যেতে পারে।


সাধারণত ভোরবেলায় আলোর গতি অত্যন্ত তীক্ষ্ণ থাকে, তখন আলো-ছায়ার ছবি সামনের আলোতে অনেক দৃষ্টিনন্দন দেখায়। আপনার মোবাইল ক্যামেরায় পর্দাটা বড় হলে ভালো হয়। তাতে ছবি দেখতে এবং কম্পোজিশনে অনেক বেশি সুবিধা হয়। মোবাইল আড়াআড়ি রেখে ছবি তোলা ভালো। তাতে বেশি সাবজেক্ট নেয়া যায়।


আলোর ব্যবহার: একটি ছবিকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য আলোর সঠিক নিয়ন্ত্রণ খুবই জরুরি। সঠিক মাত্রার আলোতে ছবির বিষয়বস্তু অর্থবহ এবং আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়। ঘরের ভেতর সাধারণ ফ্ল্যাশ লাইটে অথবা দুপুরবেলা ঘরের বাইরে তোলা ছবিগুলোতে প্রয়োজনের অধিক মাত্রায় আলো থাকে। কিছুটা অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় তোলা ছবিগুলোতে ছবির বিষয়বস্তু সঠিকভাবে ফুটিয়ে তোলা কঠিন।


আপনার ডিএসএলআর হলে বিভিন্ন ধরনের লেন্স ব্যবহার করে দেখতে পারেন। মোবাইল ফোনগুলোতে আবার সাধারণত একাধিক লেন্স ব্যবহারের সুযোগ থাকে না। তাই বিভিন্ন ডেপথ অব ফিল্ড বা ফোকাস পরিবর্তনের সুযোগও এক্ষেত্রে নেই। এ কারণেও মোবাইল ছবি তোলার ক্ষেত্রে সঠিক মাত্রার আলো থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post