যে কারনে গতি কমে যেতে পারে ইন্টারনেটের

 


করোনার এ সময়ে আমরা অনেক বেশি নির্ভর হয়ে পরেছি ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেটের উপর । 

বর্তমানের  ওয়ার্ক ফ্রম হোমে বাধ সাধছে ব্রডব্যান্ডের নেট স্পিড। কেননা এই লকডাউনের সময় বহু মানুষ ব্যবহার করছেন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেকশন। কেউ একই প্ল্যাটফর্মে সিনেমা দেখছেন, কেউ আবার দূর-দূরান্তে নিকটজনের সঙ্গে ভিডিও কলে মগ্ন। এদের সঙ্গে সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে চলছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম।


কাজেই প্রত্যেক মানুষেরই ইন্টারনেটের ঠিকঠাক স্পিড পেতে অসুবিধা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। যাদের কাছে ফাইবার ব্রডব্যান্ড কানেকশন রয়েছে, তারা এক্ষেত্রে অনেকটাই সুবিধা ভোগ করছেন। কারণ, সাধারণ ফোরজি নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক বেশি স্পিড দিয়ে থাকে, ফাইবার ব্রডব্যান্ড কানেকশন।


কিন্তু সেখানেও যে গতিতে ইন্টারনেট চলার কথা, তার থেকে অনেকটাই কম হচ্ছে। এক্ষেত্রে অভিযোগও উঠছে বিস্তর। এই পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী, ইন্টারনেটের নেক স্পিড বৃদ্ধি করতে বেশ কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। তো আসুন, জেনে নিন ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর উপায়।


প্রতিদিন ১০ মিনিট বন্ধ রাখুন আপনার রাউটার : বেশ কিছু সময়ে রাউটারের স্পিড কমে যায় আমাদের অজান্তেই। দেখা যায় রাউটারের স্পিডের কারণেই অনেক সময়ে ইন্টারনেটের সঠিক স্পিড পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে আপনি চাইলেই আপনার রাউটারের স্পিডের কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা ট্রাবলশুটিং উইজার্ড চালিয়ে দেখে নিতে পারবেন। আর সেই সমস্যার সমাধানে নতুন করে রাউটারের সেটিংস আবার চালু করলে, আপনার রাউটারটি আবার পুরনো ছন্দে অনেক বেশি ভালো স্পিডেই কাজ শুরু করবে। এছাড়াও প্রতিদিন নিয়ম করে কাজে বসার আগে বা পরে অন্তত ১০ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখুন আপনার রাউটার টি।


ওয়াইফাই রাউটারেরর স্থান বদল করুন : 


আমরা ধরে নিলাম আপনার রাউটারটি রেখেছেন টিভির সামনে বা যাতে কাজ করছেন অর্থাৎ ডেস্কটপ বা ল্যাপটপের সামনে, তাহলে ইন্টারনেটের সঠিক স্পিডের ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিতেই পারে। কেননা, ইলেকট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ রাউটারের ইন্টারনেটের গতি অনেকখানিই কমিয়ে দেয়। সেক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে ঠিকঠাক এবং নিরাপদ স্থানে রাউটারটি কে রাখা। টিভি, ল্যাপটপ-ডেস্কটপ বা যেখানে বসে আপনি মোবাইল থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, সেখান থেকে বেশ কিছুটা দূরত্বে রাখতে হবে আপনার রাউটার।


অবশ্যই নিরাপদদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন :


অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, অজান্তেই পাড়া-পড়শি ব্যবহার করছে আপনার ইন্টারনেট। আপনি কেন স্পিড পাচ্ছেন না ভেবে কূলকিনারা করছেন, আর এদিকে আপনার গোটা পাড়া ব্যবহার করছে আপনার ইন্টারনেট। সে ক্ষেত্রে নিজের রাউটারের জন্য নিরাপদ একটি পাসওয়ার্ড বাছুন। আর আপনি নিশ্চিত করুন সেই পাসওয়ার্ড যাতে ছড়িয়ে না পরে। নিরাপদ পাসওয়ার্ড সে দিক থেকে আপনার ইন্টারনেট স্পিড বাড়াতে অনেকটাই সাহায্য করবে।


অপ্রয়োজনে ভিপিএনন ব্যবহার করবেন না :


আমাদের কোনও সময়ে অফিসের কাজের জন্য ভিপিএন ব্যবহার করা একান্তই বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। এই ভিপিএন ব্যবহারে সমস্যা হচ্ছে, এটি ইন্টারনেটের স্পিড অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। তাই কাজের ক্ষেত্রে যদি ভিপিএন ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তো ব্যবহার করতেই হবে। এক্ষেত্রে অন্যকোন উপায় নেই। কিন্তু কাজের ক্ষেত্রেই যদি কোনও ভিডিও কল বা কনফারেন্সের জরুরি দরকার হলে ভিপিএন বন্ধ রেখেই তা আপনি করতে পারেন। তাতে আপনার কনফারেন্সে কোনও সমস্যা হবে না। সেইসঙ্গে বাড়বে ইন্টারনেটের গতি।


​ল্যান ক্যাবল ইন্টারনেটের স্পিড ঠিকঠাক দেয় : 


আপনি জানেন কি ? রাউটারের চাইতে অনেক বেশি স্পিড দেয় ল্যান ক্যাবল ? কারণ, এক্ষেত্রে রাউটার থেকে মোবাইল, ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ এসবের জন্য ইন্টারনেটের স্পিড ভাগাভাগি হয়ে যায়। সে সকল ক্ষেত্রে দ্রুত ইন্টারনেট স্পিড পাওয়ার সবথেকে ভালো উপায় হচ্ছে ল্যান ক্যাবল ব্যবহার করা। তবে অবশ্যই চেষ্টা কবেন নতুন ল্যান ক্যাবল ব্যবহার করার। কারণ অতি পুরনো ল্যান ক্যাবল হলে আর এক বিপদ। তাতেও ইন্টারনেটের স্পিড খুবই কম থাকে। তাই পুরনো ল্যান কেবল থাকলে তা অতিদ্রুত বদলে ফেলুন। সবসময় চেষ্টা করুন, Cat-6 এবং Cat-6a LAN ক্যাবল ব্যবহার করার, তাতে আখেরে ইন্টারনেটের স্পিড পাবেন খুবই বেশি।


অবশ্যই বুঝেশুনেে ব্যবহার করুন ইন্টারনেট : 


আপনার রাউটারের সঙ্গে অনেক মানুষ একসঙ্গে কানেক্টেড থাকলে চাপ হওয়াসহ দেখা দেয় নানান সমস্যা। সে ক্ষেত্রে বুঝেশুনে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হবে। ধরা যাক, আপনার পরিবারে ৬ জন সদস্য রয়েছে। তাদের মধ্যে ওয়ার্ক ফ্রম হোম করতে হচ্ছে কেবলই আপনাকে। বাকিরা মোবাইল থেকে সিনেমা দেখছেন, বা ভিডিও কল করছেন, এমনই কতশত কাজে যে ব্যস্ত । সে ক্ষেত্রে আপনাকে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আপনি ব্যতিরেকে বাকিরা যাতে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করেন, তাতে আখেরে মঙ্গল আপনারই হবে । কারণ, ওয়ার্ক ফ্রম হোমই এই করোনার কালবেলায় একমাত্র ভরসা। আর অফিসের কাজের গুরুত্বও অনেক বেশি। তার সঙ্গে কোনও আপোষ করা চলে না কিছুতেই ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post