এসি বিস্ফোরণের কারন ও তার প্রতিকার

 


এসি বিস্ফোরণ ! শুধু এ বছরেই নয় বেশ কিছুদিন থেকেই এসি বিস্ফোরণের এরকম খবর দেখতে হচ্ছে অহরহই । দিনকে দিন লম্বা হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল । বেড়ে চলেছে হতাহতের সংখ্যাও । এর ফলে ফলে সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ আতংক; কেননা আমরা সাধারণত রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কথাই জানতাম । এসি বিস্ফোরণের খবর মাঝে মাঝে কানে আসলেও এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই বললেই চলে ।


এখন, এরকম দুর্ঘটনা সম্পর্কে সজাগ হওয়ার সময় এসেছে । শুধুমাত্র সচেতনতাই পারে এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে।


তাহলে আসুন, আজকে আমরা জেনে নেই কেন এসির বিস্ফোরণ ঘটে ?


১। দেখা যায় অনেক সময় কম্প্রেসারের ভেতরে লেগে থাকে, এতে গ্যাস লিক হয়ে যায়; এই জ্যাম আর লিক সময়মতো সার্ভিসিং না করালে বিস্ফোরণ ঘটতেই পারে । এছাড়া এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলেও বিস্ফোরণ ঘটার সমূহ সম্ভাবনা ।


২। যদি এসির প্রেসার বেড়ে যায় তবে কম্প্রেসার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে ।


৩। দেখা যাবে অনেক সময় বার্নেবল গ্যাসের কারণেও ঘটতে পারে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ।


৪। দেখা যায় বেশীরভাগ সময়ই বৈদ্যুতিক হাই ভোল্টেজের কারণে এসব ঘটনা ঘটে থাকে । হাইভোল্টেজের কারণে যেকোনো ইলেক্ট্রিক মেশিনের ওপর চাপ সৃষ্টি হলেই সেখানে সমস্যা হয় এবং একসময় বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয় ।


৫। দেখা যায় বজ্রপাতের কারণে অনেক সময় এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে ।


বর্তমানে এসিবিস্ফোরণের দুর্ঘটনা এড়াবেন যেভাবেঃ


আপনাদের একটু সচেতনতা আর সতর্কতা অবলম্বনই এসব ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র অবলম্বন হতে পারে;


১। ২৪ ঘণ্টা বা সারাদিন এসি চালু রাখবেন না। যদি দীর্ঘক্ষণ চালু থাকে তবে এসির যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত গরম হয়ে আগুন ধরে যেতে পারে । বেশ কিছুক্ষণ চালিয়ে অন্তত এক-দুই ঘণ্টা এসিকে অবশ্যই বিশ্রাম দিন।


২। ১ বছরে অন্তত একবার প্রফেশনাল টেকনিশিয়ান দ্বারা এসি চেক আপ করাবেন । কারন মেকানিক্যাল বা ইলেকট্রিক্যাল ফল্টের কারন, যে কোন সময়‌ই আগুন ধরে যেতে পারে আপনার এসি থেকে। তাই টেকনিশিয়ান দ্বারা চেক করিয়ে রাখুন আপনার এসির কানেকশনে কোন ধরণের ফল্ট আছে কিনা।


৩। এসির ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন;

অবশ্যই খেয়াল রাখুন যেন এসির ভেতর কিছু জমাট বেঁধে না যায়। আপনার এয়ার কন্ডিশনার এর এয়ার ফিল্টার নিয়মিতি পরিষ্কার করুন বা যদি আপনার পুনঃব্যবহারযোগ্য ফিল্টার থাকে তাহলে একটি নির্দিষ্ট সময় পর সেটাকে অবশ্যই পরিবর্তন করুন। আর এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণত এসি রক্ষণাবেক্ষণের কাজগুলির মধ্যে একটি। বছরের কিছু সময় যেমন গ্রীষ্ম এবং শীতকালে বা বসন্তের সময় প্রতি মাসে একবার এটি করা উচিত।


৪।এসির ওয়্যারিং পর্যবেক্ষণ;

এয়ার কন্ডিশনারে কাজ করার আগে অবশ্যই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে নিতে হবে । আপনার বাড়ির প্রধান ব্রেকার প্যানেল থেকে একাজ করা যাবে। প্রথমে আপনার কেন্দ্রীভূত ইউনিট এ অ্যাক্সেস প্যানেলটি সরান এবং ওভারহিটিং এর কোন লক্ষণ আছে কিনা দেখুন। এছাড়াও তারের উপর গলিত আস্তরণ, কালো বা জ্বলিত কিছু খুঁজে পেলে সাথে সাথে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন । ভেতরের সবগুলো তারের সংযোগ টাইট করে লাগানো কিনা দেখে নিন ।


৫। বৈদ্যুতিক হাই ভোল্টেজ এড়ানোর জন্য বিল্ডিংয়ের ছাদে বজ্রনিরোধক ব্যবস্থা রাখুন।


৬। নকল এসি ব্যবহার করবেন না :

বেশিরভাগ সময় নিম্নমানের ও মানহীন যন্ত্রাংশ এসব নকল এসিতে ব্যবহার করে বিখ্যাত কোন এসির নাম ও লোগো দিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়। তাই এসি কেনার সময় অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।


৭। প্রতিবছর গরমের শুরুতে এসির বৈদ্যুতিক সংযোগ, সকেট, ফিল্টার—এসবের অবস্থাটা ঠিকমতো পরীক্ষা করতে হবে। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর চালু করতে গেলে অবশ্যই এসির সংযোগ তার পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। অনেক দিন বন্ধ থাকার কারণে চালু করলে এসির ভেতরে শব্দ হতে থাকে। আবার পানিও পড়তে পারে।


প্রিয় পাঠক ! উপরিউক্ত বিষয়গুলো নজরে রেখে এসি ব্যবহার করলে অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় এড়িয়ে যেতে পারবেন । তাই সবসময়‌ এগুলো অনুসরণের চেষ্টা করুন ।

Post a Comment (0)
Previous Post Next Post